‘ইওর মানি, ইওর রাইট’ কর্মসূচি তিনটি মূল স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে— অ্যাওয়ারনেস, অ্যাক্সেস ও অ্যাকশন।
অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ আর্থিক পরিষেবা বিভাগ (Department of Financial Services) এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই), বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই, সেবি ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন ইনভেস্টর এডুকেশন অ্যান্ড প্রোটেকশন ফান্ড অথরিটি এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রতিটি নাগরিক যেন জানতে পারেন—বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁদের নামে জমে থাকা দাবিহীন অর্থ সহজে ফেরত পাওয়া যায়।
অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, ব্যাঙ্ক, বিমা সংস্থা, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিভিডেন্ড ও পেনশনসহ নানা ক্ষেত্রে বহু টাকার আমানত বছরের পর বছর দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। আনুমানিক ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ এখনো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খাতায় অব্যবহৃত রয়েছে। অনেক সময় পুরনো বা ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত দাবিদার অর্থ ফেরত পান না। এই প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সেই জট খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
‘ইওর মানি, ইওর রাইট’ কর্মসূচি তিনটি মূল স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে— অ্যাওয়ারনেস (Awareness), অ্যাক্সেস (Access) ও অ্যাকশন (Action)। অর্থাৎ, প্রথমে নাগরিকদের তাঁদের আর্থিক অধিকারের বিষয়ে জানানো হবে, তারপর তাঁদের সহজে দাবি জানাতে ডিজিটাল অ্যাক্সেস দেওয়া হবে, এবং শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা হবে।
এই তিন মাসের অভিযানে দেশের ২২টি জেলায় বিশেষ সচেতনতা শিবির ও সাহায্য কেন্দ্র খোলা হবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন বিমা ও বিনিয়োগ সংস্থা এতে অংশ নেবে। অর্থ মন্ত্রকের দাবি, ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ তাঁদের পুরনো অ্যাকাউন্ট বা বিনিয়োগ থেকে টাকা ফেরত পেয়েছেন, এবং এই উদ্যোগের সুফল কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছবে।
সরকার এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে ডিজিটাল সহায়তার ব্যবস্থাও করেছে। নাগরিকরা অনলাইনে **আরবিআই-এর ইউডিজিএএম (UDGAM) পোর্টালে** গিয়ে তাঁদের নামে কোনও দাবিহীন টাকা আছে কি না তা জানতে পারবেন। এর জন্য কেবল নাম, প্যান নম্বর বা আধার নম্বর দিলেই তথ্য পাওয়া যাবে। যদি কোনও দাবিহীন অর্থ পাওয়া যায়, তবে অনলাইনেই আবেদন ফর্ম পূরণ করে দাবি জানানো যাবে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
আরবিআই-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে প্রত্যেক ব্যাঙ্ককে নিজেদের ওয়েবসাইটে দাবিহীন আমানতের তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং জনসাধারণের জন্য সার্চ সুবিধা রাখতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং আইন সংশোধনের মাধ্যমে এখন থেকে প্রতিটি অ্যাকাউন্টে সর্বাধিক চারজন পর্যন্ত মনোনীত উত্তরাধিকারী রাখা যাবে, যাতে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হলেও প্রকৃত উপভোক্তা সহজে শনাক্ত করা যায়।
অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই উদ্যোগ কেবল জনগণের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াকেই সহজ করবে না, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকেও আরও দৃঢ় করবে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যেখানেই থাকুক, জনগণের উপার্জিত অর্থ তাঁদের ন্যায্য অধিকার, এবং সেই অর্থ ফেরত পেতেই এই জাতীয় অভিযান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন