NSE-র আইপিওর পথে বড় পদক্ষেপ, ১৪.৮৯ কোটি শেয়ার বিক্রির জন্য DRHP জমা SEBI-তে

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) আইপিওর জন্য SEBI-র কাছে ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস জমা দিল। অফার ফর সেলে প্রায় ১৪.৮৯ কোটি শেয়ার বিক্রি করা হবে, যা NSE-র পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৬ শতাংশ।

NSE-র আইপিওর পথে বড় পদক্ষেপ, ১৪.৮৯ কোটি শেয়ার বিক্রির জন্য DRHP জমা SEBI-তে


মুম্বই : দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (NSE) শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগোল। সংস্থা আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI)-র কাছে ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস (DRHP) জমা দিয়েছে।


NSE-র প্রস্তাবিত আইপিও সম্পূর্ণরূপে অফার ফর সেল (OFS)। এই আইপিওতে মোট ১৪,৮৯,০৫,৫২৫টি শেয়ার বিক্রি করা হবে, যা সংস্থার পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৬ শতাংশ। বিক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), MS Strategic (Mauritius) Ltd, Canada Pension Plan Investment Board, Aranda Investments (Mauritius) Pte Ltd, Bank of Baroda-সহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বিমা সংস্থা।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এই আইপিও সম্পন্ন হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নেট অফারের সর্বাধিক ৫০ শতাংশ অংশ যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের (QIB) জন্য বরাদ্দ থাকবে। ন্যূনতম ১৫ শতাংশ অংশ নন-ইনস্টিটিউশনাল বিনিয়োগকারীদের এবং ৩৫ শতাংশ খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হবে।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত NSE বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জ। ক্যাশ মার্কেট ও ইক্যুইটি ডেরিভেটিভসের মোট লেনদেনের নিরিখে এটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক্সচেঞ্জ। Redseer-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইক্যুইটি অপশনের নোটিসনাল টার্নওভারের নিরিখেও NSE শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৯ থেকে ২০২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড কারেন্সি ডেরিভেটিভসের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি দেশের বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ।

ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, NSE ২০২৬ অর্থবর্ষে বিশ্বের বৃহত্তম ইক্যুইটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জের জায়গা ধরে রেখেছে। NSE International Exchange-সহ ৩৬.৯৯ বিলিয়নেরও বেশি কনট্র্যাক্ট লেনদেন হয়েছে ওই সময়ে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ক্যাশ মার্কেটের মোট লেনদেনের নিরিখে NSE ভারতের বৃহত্তম এবং ক্যাশ ইক্যুইটিতে ট্রেডের সংখ্যার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ।

NSE নিজেকে ভারতের প্রথম স্তরের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও তুলে ধরেছে। বিনিয়োগকারী, ইস্যুয়ার ও মধ্যস্থতাকারীদের জন্য স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখাই সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

ট্রেডিং, ক্লিয়ারিং, লিস্টিং, ডেটা পরিষেবা-সহ একাধিক পরিষেবা একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করে NSE। ক্যাশ মার্কেট, ফিউচার্স, অপশনস, মিউচুয়াল ফান্ড প্ল্যাটফর্ম, কমোডিটি ডেরিভেটিভস, কারেন্সি ডেরিভেটিভস, হোলসেল ডেট মার্কেট এবং ইন্টারেস্ট রেট ফিউচার্সের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থার ব্যবসা রয়েছে।

প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও NSE-র অবস্থান শক্তিশালী। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংস্থার প্ল্যাটফর্ম প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন মেসেজ প্রক্রিয়াকরণ করেছে। ২০২৪ সালের ৪ জুন সমস্ত সেগমেন্ট মিলিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯৩.৮৫ মিলিয়ন ট্রেডের রেকর্ড তৈরি হয়।

বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও NSE উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ করেছে। সংস্থার ইউনিক রেজিস্টার্ড ইনভেস্টরের সংখ্যা ২০২০ সালের ৩১ মার্চের ৩.০৮৭ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চে ১২.৯১ কোটিতে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির হার ছিল বার্ষিক ২৬.৯ শতাংশ। ২০২৬ অর্থবর্ষে NSE প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোট ২০.৩ ট্রিলিয়ন টাকা তহবিল সংগ্রহ হয়েছে।

আর্থিক দিক থেকেও NSE শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার অপারেশন থেকে আয় হয়েছে ১৬,৬০১ কোটি টাকা, যা ২০২৪ অর্থবর্ষে ছিল ১৪,৭৮০ কোটি টাকা। একই সময়ে নিট মুনাফা বেড়ে হয়েছে ১০,৩০২ কোটি টাকা, যা ২০২৪ অর্থবর্ষে ছিল ৮,৩০৫ কোটি টাকা।



আইপিও ইস্যুর জন্য বুক রানিং লিড ম্যানেজার হিসেবে একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। MUFG Intime India Private Limited এই ইস্যুর রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করবে। NSE-র আইপিও বাজারে এলে তা দেশের পুঁজিবাজারে অন্যতম বড় ঘটনা হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

DISCLAIMER - This article is from a syndicated feed. The original source is responsible for accuracy, views & content ownership. Views expressed may not reflect those of Udaya Bangla.

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন