২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে প্রতিদ্বন্দ্বী বাম প্রার্থী প্রতীক উর রহমান এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন, শুরু জোর রাজনৈতিক চর্চা।
উদয় বাংলা : ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। শনিবার শাসকদলে যোগ দিলেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া প্রতীক উর রহমান। যাঁর বিরুদ্ধে ভোটে নেমেছিলেন, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলার দলীয় কার্যালয়ে প্রতিকুরের অভিষেক হয়। আসলে খোলা রাস্তার অনুষ্ঠানে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
![]() |
| আমতলায় তৃণমূলের দলীয় দপ্তরের সামনে রাস্তায়। শনিবার। |
উদয় বাংলা : ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। শনিবার শাসকদলে যোগ দিলেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া প্রতীক উর রহমান। যাঁর বিরুদ্ধে ভোটে নেমেছিলেন, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলার দলীয় কার্যালয়ে প্রতিকুরের অভিষেক হয়। আসলে খোলা রাস্তার অনুষ্ঠানে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেকের কাছে সাত লাখের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন প্রতীক উর। সেই সময় শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটে তাঁর এই দলবদল রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। তৃণমূলের যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই সিপিএম তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
শনিবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার সংগঠনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে বৈঠকে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বুথভিত্তিক সংগঠন, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরেই আচমকাই সেখানে উপস্থিত হন প্রতীক উর রহমান এবং তৃণমূলের পতাকা গ্রহণ করেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি কেবল শুরু। আগামী দিনে আরও তরুণ বাম নেতারা শাসকদলে যোগ দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাম শিবিরে কি ধীরে ধীরে ভাঙন ধরছে? বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে এই দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রতীক উর রহমান বাম শিবিরের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রতীক উর রহমান বাম শিবিরের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সম্প্রতি তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-কে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অস্বস্তি তৈরি হয় দলের অন্দরে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা চললেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই তাঁর দলত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
দলবদলের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে বাম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন কর্মীকেও চিনতে পারেনি বাম নেতৃত্ব, বরং আগেভাগেই তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতীক উর রহমানও জানান, তিনি কোনও ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বাম শিবিরের অন্দরে এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনা কি বিচ্ছিন্ন, নাকি বৃহত্তর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ? সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে সংগঠন ও কৌশল নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছিল। প্রতীক উরের দলত্যাগ সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, রাজ্যের উন্নয়ন ও সংগঠনের শক্তির ওপর ভরসা রেখেই বিরোধী শিবিরের নেতারা দলে যোগ দিচ্ছেন। ভোটের আগে এই ধরনের যোগদানকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছে শাসকদল। কারণ, যিনি একসময় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাঁরই হাত ধরে দলে যোগ দেওয়া— এই ঘটনাকে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন