পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার মাঝে ভারত জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মনির্ভর অর্থনীতির উপর জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। লিখছেন অর্ঘ্য কর্মকার


পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম চাপের আবহে ভারত এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে একাধিক কৌশলগত পদক্ষেপে জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর সাম্প্রতিক আহ্বানগুলিকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর পিছনে রয়েছে বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুরক্ষা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে। অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার, ভোজ্যতেল, ধাতু ও খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। তার উপর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল বাণিজ্য এই সমুদ্রপথ দিয়েই হয়ে থাকে। ফলে জাহাজ পরিবহণ ব্যয়, যুদ্ধজনিত বিমা খরচ ও পরিশোধন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির প্রভাব আরও গভীর। দেশকে এখনও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, সার, ভোজ্যতেল ও শিল্পক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরাসরি চাপ পড়ে ভারতের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, টাকার বিনিময় মূল্য এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার উপর।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আমদানি মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। বিদেশি মুদ্রা রফতানি, প্রবাসী আয়, পরিষেবা খাত ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আসে। সেই অর্থই ব্যয় হয় জ্বালানি, এলএনজি, ইলেকট্রনিক্স, সার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে। ফলে বৈশ্বিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ধরে রাখা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় ও অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণকে এখন বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রতিরোধক্ষমতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো গেলে অপরিশোধিত তেলের আমদানির চাপ কমবে। একই সঙ্গে গণপরিবহণ, দেশীয় পর্যটন এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ব্যবহার দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখবে। প্রাকৃতিক চাষ, ইথানল মিশ্রণ, সৌরচালিত পাম্প এবং নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসার ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটি কোটি মানুষের ছোট ছোট ব্যবহারগত পরিবর্তন একত্রে বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো, দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো সম্ভব।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আইওসিএল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক জোগান বজায় রেখেছে। দেশের বড় বড় ভোক্তা কেন্দ্রগুলিতে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনও জ্বালানি সংকটের খবর মেলেনি।
শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংকট শুধু অপরিশোধিত তেলের দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, যুদ্ধঝুঁকির বিমা, ইউরোপ ও এশিয়ায় ডিজেল ও বিমান জ্বালানির ঘাটতি, দীর্ঘতর পরিবহণ পথ এবং রিফাইনারি সমস্যার ফলে এটি এক প্রজন্মের অন্যতম বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে পরিণত হয়েছে।
তবু ভারত এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল খুচরো জ্বালানি মূল্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সমন্বিত জ্বালানি পরিকাঠামো — রিফাইনারি, উপকূলীয় টার্মিনাল, এলপিজি বোতলজাতকরণ কেন্দ্র, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ও অভ্যন্তরীণ ডিপো — এই সংকটে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
শিল্পমহলের ধারণা, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ভারত ততই জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজার স্থিতিশীলতা, আত্মনির্ভরতা এবং অর্থনৈতিক প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে আরও জোর দেবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে। অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার, ভোজ্যতেল, ধাতু ও খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। তার উপর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল বাণিজ্য এই সমুদ্রপথ দিয়েই হয়ে থাকে। ফলে জাহাজ পরিবহণ ব্যয়, যুদ্ধজনিত বিমা খরচ ও পরিশোধন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির প্রভাব আরও গভীর। দেশকে এখনও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, সার, ভোজ্যতেল ও শিল্পক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরাসরি চাপ পড়ে ভারতের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, টাকার বিনিময় মূল্য এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার উপর।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আমদানি মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। বিদেশি মুদ্রা রফতানি, প্রবাসী আয়, পরিষেবা খাত ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আসে। সেই অর্থই ব্যয় হয় জ্বালানি, এলএনজি, ইলেকট্রনিক্স, সার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে। ফলে বৈশ্বিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ধরে রাখা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় ও অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণকে এখন বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রতিরোধক্ষমতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো গেলে অপরিশোধিত তেলের আমদানির চাপ কমবে। একই সঙ্গে গণপরিবহণ, দেশীয় পর্যটন এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ব্যবহার দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখবে। প্রাকৃতিক চাষ, ইথানল মিশ্রণ, সৌরচালিত পাম্প এবং নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসার ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটি কোটি মানুষের ছোট ছোট ব্যবহারগত পরিবর্তন একত্রে বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো, দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো সম্ভব।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আইওসিএল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক জোগান বজায় রেখেছে। দেশের বড় বড় ভোক্তা কেন্দ্রগুলিতে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনও জ্বালানি সংকটের খবর মেলেনি।
শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংকট শুধু অপরিশোধিত তেলের দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, যুদ্ধঝুঁকির বিমা, ইউরোপ ও এশিয়ায় ডিজেল ও বিমান জ্বালানির ঘাটতি, দীর্ঘতর পরিবহণ পথ এবং রিফাইনারি সমস্যার ফলে এটি এক প্রজন্মের অন্যতম বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে পরিণত হয়েছে।
তবু ভারত এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল খুচরো জ্বালানি মূল্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সমন্বিত জ্বালানি পরিকাঠামো — রিফাইনারি, উপকূলীয় টার্মিনাল, এলপিজি বোতলজাতকরণ কেন্দ্র, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ও অভ্যন্তরীণ ডিপো — এই সংকটে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
শিল্পমহলের ধারণা, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ভারত ততই জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজার স্থিতিশীলতা, আত্মনির্ভরতা এবং অর্থনৈতিক প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে আরও জোর দেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন